শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

বাঙ্গালির ঐতিয্যবাহী ইফতার মালেশিয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মাহে রমজানকে ঘিরে প্রতি বছর নতুনরূপে সাজে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ মালয়েশিয়া। রাজধানী কুয়ালালামপুর, পেনাং, জোহর, পাহাং থেকে শুরু করে সব রাজ্যেই পবিত্র রমজানের ছোঁয়া লাগে। ষাট শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির শহর থেকে গ্রামে সবখানেই পবিত্র এ মাস উপলক্ষে থাকে বিশেষ আয়োজন।রমজানে মালেশিয়াতে সরকারি অফিস, আদালত দেশটির স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে চারটায় ছুটি হয়। ক্রেতাদের জন্য আকর্ষনীয় ছাড় ঘোষণা করে শপিংমলগুলো। রোজার দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই তাই শুরু হয়ে যায় কেনাকাটার ধুম।মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান পালন করে অনেকটা দেশীয় আমেজে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় রমজানে শ্রমিকদের নামাজ পড়ার ও রোজা রাখার সুযোগ করে দেয়া হয়। মসজিদগুলোতে বিনামুল্যে ইফতারির সুযোগ থাকে। তারাবির নামাজও পড়ানো হয় প্রত্যেকটি মসজিদে।
    
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান মাসে ইফতার করেন দেশীয় খাবার দিয়েই। বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলোতে দেশীয় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে ইফতারি বানানো হয়্। ইফতারিতে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, পেয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি, সরবত, জুস, হালিম, লাচ্চিসহ নানা প্রকারের খাবার রাখা হয়।

স্থানীয়রা ইফতার করেন বিভিন্ন প্রকারের হাতে বানানো পিঠা, হালুয়া জাতীয় নাশতা, সাদা ভাত, বিরিয়ানি, ফলমূলসহ মালয়েশিয়ান খাবার দিয়ে। সঙ্গে থাকে আম, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, পেঁপে, আপেল, আঙুর, কমলাসহ নানা রকম মালয়েশিয়ান ফল। এ মাসে বেশ অতিথি পরায়ন হয়ে ওঠে মালয়েশিয়ানরা।বাংলাদেশিরা যেখানে থাকেন বা কাজ করেন, সেখানেই একসঙ্গে ইফতার করেন। তাই বাংলাদেশিদের আয়োজনটা বড় হয়। বাঙালিদের ইফতারির বিশাল আয়োজন দেখে মালয়েশিয়ানরা অভিভূত   হয়।

রমজান মাসে প্রতিদিন বিকেলে মালয়েশিয়ার প্রায় সব জায়গায় বাজার রমদান নামে ইফতারি বেচাকেনার মেলা বসে। বাজার রমদানে বিভিন্ন প্রকারের মালয়েশিয়ান খাবারের সমারহ ঘটে। তবে এসব খাবার প্রবাসী বাঙালিদের খুব একটা কাছে টানে না। বাজার রমদান থেকে তারা বড়জোর ফলমূল কেনেন। ইফতারির আসল আইটেমগুলো তারা বাসায় নিজেরা তৈরি করেন বা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট থেকে কিনে আনেন।
রমজানে মুসলমানদের দিনে প্রকাশ্যে খাওয়া মালয়েশিয়ার আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। প্রতিবছর এ অপরাধে আটক হন অনেকে। এছাড়া পুরো রমজানে সরকারি নজরদারিতে জিনিস পত্রের দাম অন্যান্য সময়ের থেকে কম রাখা হয়। এ মাসে মসজিদগুলোতে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায়্। নামাজের পরে কোরআন তিলাওয়াত করতে পছন্দ করেন মালয়েশিয়ানরা। মসজিদে মসজিদে ইফতারিতে বিনামুল্যে শরবত ও বুবুর বা নরম খিচুড়ির ব্যাবস্থা থাকেদেশীয় খাবার ছাড়া ভিনদেশী খাবারে ইফতার জমেনা  বাংলাদেশিদের। সুদূর প্রবাসে থেকেও তাই তৃপ্তি মেটাতে ইফতারে বাঙালি খাবার-ই তাদের প্রথম পছন্দ।