রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

জমি কেনা-বেচায় সরকার নির্ধারিত কোন মূল্য আর থাকছে না

আজকাল ডেস্কঃ জমি কেনা-বেচায় সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পদ্ধতি  আর থাকছে না। অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা পাচার রোধে আগামী ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে জমির নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।আজ শনিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত।অর্থমন্ত্রী বলেন, জমি কেনাবেচায় প্রকৃত বাজারমূল্য প্রতিফলিত না হওয়ায় রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির মূল্যের বড় একটি অংশ গোপন করে সংশ্লিষ্টরা কালো টাকার মালিক হচ্ছেন।

তিনি বলেন, জমি কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকার অন্যতম উৎস। পরবর্তীতে এ কালো টাকা তারা বিদেশে পাচার করে। তা্ই পাচার বন্ধে আগামী বাজেটে জমির সর্বনিম্ন নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে ।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাটা সম্প্রসারণে আমরা জোর দিয়েছি। সেটায় আমরা সফল হয়েছি। তবে শিক্ষার মানটা মোটেই বাড়েনি বলা হয়। এখন মানের দিকে নজর দেওয়া দরকার।
মন্ত্রী বলেনদাবিটা ছাত্র-অভিভাবকদের কাছ থেকেও আসছে। আমরাও ব্যাপারটিতে সচেতন। অনেক কিছু সংস্কার হয়েছে, আরো কিছু করার আছে।
তিনি বলেন, শিক্ষক গড়া-শিক্ষক সৃষ্টি করা এত সহজ নয়। যেসব ইন্সটিটিউট আছে, তাতে সম্ভব নয়। আরো বাড়ানো দরকার। পিএইচডির সংখ্যা বাড়ানো উচিত। গবেষণার জন্য এবার বরাদ্দ থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রধান উদেশ্য হচ্ছে- জ্ঞানের জগৎতে তোমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া। আসল জ্ঞান অর্জন হবে বিশ্ববিদল্যালয়ে শেষ করার পর।
তিনি বলেন, আমাদের লাইব্রেরিগুলোর ব্যাপক সংস্কার দরকার। গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তবে এ জন্য স্থানীয়দের উদ্যোগী হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী আয় কমছে, এটা সত্য। এটা কিভাবে বাড়ানো যায়  সে চেষ্টা চলছে।
আজকের বৈঠকে বক্তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত এবং  শিক্ষা গবেষণায় নজর বাড়ানো, ভূমি খাতের দূর্নীতি রোধ, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো, কৃষিতে নায্য মূল্য, অর্থপাচার রোধে বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
এছাড়া লিখিত প্রস্তাবনায় বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, বিদেশি কর্মীদের আয়ে কর বাড়ানো ও মনিটরিং জোরদার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা,অর্থ পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি ফেরানো,দ্রুত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন,নৌপথ ও রেলপথের পুনরুজ্জীবনে কার্যকর পদেক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় ইআরএফ ।