শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভারত সফরে যে সকল বিষয়ে আলোচনা হবে

আজকাল ডেস্ক:সোয়া সাত বছর পর এই প্রথম কোনও দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - আর তাঁকে স্বাগত জানাতে যথারীতি হোর্ডিং, জাতীয় পতাকা আর ব্যানারে সেজে উঠছে দিল্লির রাজপথ।

তবে এটা যে বিদেশি সরকারপ্রধানদের আর পাঁচটা রুটিন সফরের মতো একেবারেই নয় - বরং সফরটা ঐতিহাসিক করে তুলতে দুদেশের কর্মকর্তারাই রাতদিন এক করে তুলছেন, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র গোপাল বাগলে যেমন বলছিলেন, "দেখবেন এটা কিন্তু সত্যিকারের একটা ল্যান্ডমার্ক ভিজিট বা অবিস্মরণীয় সফর হয়ে উঠবে।"

"এই সফর থেকে যাতে অর্জনগুলোও বড় মাপের হতে পারে, তার জন্য আমরা দুপক্ষই এখন নিবিড়ভাবে ও সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সফরে ঠিক কী কী হবে তার বিস্তারিত অবশ্য আমি এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।"
সরকারি কর্মকর্তারা বেশি ভেঙে বলতে চান না, তবে দুদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বিশেষ সমঝোতা হতে চলেছে এবং তিস্তা নিয়ে চুক্তির আশা একেবারেই ক্ষীণ - দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা তা মোটামুটি ধরেই নিয়েছেন।

দিল্লির নামী থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য যেমন বলছিলেন, "অতীতে অনেকবারই দেখা গেছে বাংলাদেশে যখনই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একটা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। কিন্তু যদি সেই সম্পর্কটাকে প্রতিরক্ষা সমঝোতার মতো কোনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায় তাহলে আশা করা যায় সেই সম্পর্কে অনেক বেশি স্থিতিশীলতা আসবে।"

তিনি আরও বলছেন, "এই সফরটা হল আমাদের পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সফর। এটা পরস্পরকে নতুন ভাবে দেখার ও সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে বের করার সফর। আর তিস্তা চুক্তি যাতে আগামীতে হয় সেদিকেও ভারতের গুরুত্ব থাকবে।"
দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের মতো বিদেশনীতি চর্চার মূল কেন্দ্রগুলোতেও দুদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে - এবং অনেকেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনটা আসলে এক সুতোয় গাঁথা।
সূত্র:বিবিসি বাংলা