বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

অভিজাত মিষ্টি বিপনী মধুবন এর পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎকার

সিলেটের লোকজন বাংলাদেশের অন্নান্ন অঞ্চলের তুলনায় একটু বেশি মিষ্টির প্রতি আকর্ষিত,সিলেটে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিষ্টি জাতীয় পণ্যের সমাহার।তন্মধ্যে ফিজা,বনফুল,ফুলকলি,রসমালাই ও মধুবন সবচেয়ে জনপ্রিয়।প্রতিটি কোম্পানির রয়েছে  নিজস্ব কারখানা.একেকটি কারখানায় ভিন্ন ও নতুন স্বাদের মিষ্টি তৈরী করা হয়।আমরা যখন আত্নীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাই কিংবা বিশেষ কোনো মুহর্তে আমরা এই সকল মিষ্টিবিপনি থেকে মিষ্টি ক্রয় করি।আজ আমাদের কথা হয় সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টিবিপনি "মধুবন" এর পরিচালক জনাব "এইচ কে এম সালাউদ্দিন কামাল" এর সাথে.তিনি আমাদের বলেন সিলেটে মিষ্টির চাহিদা এবং মধুবন ফ্যাক্টরির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

এইচ কে এম সালাউদ্দিন কামাল সাহেবের গ্রামের বাড়ি চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকায়।তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সিলেট এ বসবাস করতেছেন চলুন জেনে নেই তিনি আমাদের কি বললেন:

সিলেটে মিষ্টির চাহিদা:সিলেটে মিষ্টির চাহিদা ভালোঢাকা-চট্রগ্রামের পর সিলেট হচ্ছে আমাদের তৃতীয় চাহিদা সম্পন্ন বাজার।চট্রগ্রাম ও ঢাকায় আমাদের ফ্যাক্টরীর প্রতিদিন প্রোডাকশন ১০০০কেজি এবং সিলেটে ৫০০কেজি।আমাদের চট্রগ্রামের মতো সিলেটের লোকজন অথিতি পরা‌য়োন।আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে মিষ্টি না নিয়ে গেলে হয় না।বিশেষ করে সিলেট ও চট্রগ্রামে ইফতার এর যে রেওয়াজ তা অন্নান্ন শহরের তুলনায় অনেক বেশি।


চট্রগ্রাম থেকে সিলেটে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণ:আমাদের মধুবন ফ্যাক্টরি বিগত ৪০ বৎসর যাবত  পরিচালিত হচ্ছে।আমাদের প্রথম কারখানা চট্রগ্রামের দাম পাড়ায়  হাজি মোহাম্মদ সোলাইমান সাহেব ১৯৭৭ সালে এই মধুবন অভিজাত মিষ্টি বিপনীর কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

আমাদের সিলেটে স্থানান্তরিত হওয়ার অন্যতম কারণ, সিলেটের পরিবেশ গত দিক দেখে আমাদের ভালো লাগে।আমরা যখন সিলেটে ঘুরতে আসি সিলেটের মনোরম পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে,মানুষের রুচি, মানুষের কথা বার্তা আমাকে উৎসাহিত করে,তাছাড়া এখানকার লোকজন ধর্মপরায়ণ  ও আমানতদারিতা দে‌খে সিলেটের মানুষকে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।সিলেটের যানজট পরিস্থিতি অন্নান্ন শহরের তুলনায় কম,আইন পরিস্থিতি ও ভালো এইসব মি‌লে আমাদের সিলেটে আসতে অনুপ্রাণিত করে।



মধুবন কারখানায় যে সকল উপাদান তৈরী হয়:আমাদের কারখানায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধরণের মিষ্টি তৈরী হয় তারমধ্যে ক্ষীরমোহন ও দধি সবচেয়ে জনপ্রিয়।প্রায় ১৫-২০ ধরণের বিস্কিট ও আমাদের কারখানায় প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী তৈরী হয়।বিস্কিটের মধ্যে টোস্ট সবচেয়ে জনপ্রিয়।তাছাড়া আধুনিক সকল ধরণের ফাস্ট ফুড খাবারের আইটেম ও আমাদের রয়েছে।

আপনাদের খাবার কতটুকু মানসম্মত:আমাদের ফ্যাক্টরিতে অত্যাধুনিক মিক্সার মেশিনে যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য উপাদান  মিক্স করা হয়।আমাদের এই খানে হাতের কোনো স্পর্শ নেই।অত্যাধুনিক অটো ওভেন এ আমরা বিস্কিট ও পাউরুটি ওভেন এ বেক করে থাকি।তাছাড়া মানসম্মত বজায় রাখার জন্য ইউনিফর্ম,হাতের গ্লাভস ও অন্নান্ন হাইজেনিক ব্যাবস্থা রয়েছে।দধি এবং মিষ্টির জন্য আমরা খাঁটি গরুর দুধ ব্যবহার কর।


মধুবন কারখানায় কর্মচারীর সংখ্যা:আমাদের ফ্যাক্টরিতে মোট কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৪০০,তারমধ্যে ১০০ জন মহিলা এই খানে কর্মরত রয়েছেন।আমাদের নাইট শিফটে ১৫০ জন  ও সকালের শিফটে ৩৫০ জন কর্মচারী কাজ করেন।

সিলেটে মধুবনের শাখা:বৃহত্তর সিলেটে আমাদের ২৬ টি শাখা রয়েছে এবং সিলেট শহরে ১২টির মতো শাখা রয়েছ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:মানসম্মত বজায় রাখা,আইটেম বাড়ানো,নিত্যনতুন মেশিনারিজ নিয়ে আসা এবং ব্যবসা পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা  রয়েছে।

ভ্যাট নীতি:বর্তমানে আমাদের উৎপাদনের উপর ১৫%ভ্যাট এবং বিক্রয়ের উপর ৪% ভ্যাট সরকারকে দিতে হচ্ছে।সরকার যদি উৎপাদনের উপর ভ্যাট এর পরিমান একটু কমিয়ে আন্ত তাহলে আমরা  আরো দ্রুত আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারতাম এবং আরো অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী  হতো।