সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

বিএনপির ৩ মেয়র একই দিনে বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্ট:দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুটি সিটি করপোরেশন ও একটি পৌরসভার মেয়রকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এঁরা হলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ। তাঁরা তিনজনই বিএনপির নেতা।

মামলায় অভিযোগপত্রে তিনজনের নাম থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুপুর ২টা ৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব আদেশ তাঁদের কর্মস্থলে পৌঁছায়।


তবে বারবার বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায়ে দায়িত্বে ফেরা তিন মেয়রই দাবি করেছেন, রাজনৈতিক কারণেই তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন।

আজ রোববার দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ প্রজ্ঞাপন জারি করে তাৎক্ষণিকভাবে তা ফ্যাক্সযোগে প্রত্যেকের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এ প্রজ্ঞাপন অবিলেম্ব কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা থাকা এবং এসব মামলায় অভিযোগ দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ কারাবাসের পর রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর দুপুর ২টায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ফ্যাক্সে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে আরিফুলকে সাময়িক বহিষ্কারের বার্তা জানানো হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভোটকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিকভাবে সরকার মানুষকে তাচ্ছিল্য করেছে।

অপরদিকে একই দিনে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য দুপুরে নগর ভবনে যান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বেলা ৩টার দিকে মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেন। এর ৫ মিনিটের মাথায় বরখাস্তের চিঠি পৌঁছে নগর ভবনে। বুলবুল একে ‘অবৈধ ও ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা জি কে গউছ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তৃতীয়বারের মতো হবিগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হন। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে শপথগ্রহণ করার পর তিনি বরখাস্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ছয় মাসের জামিন পান।

৭৩৯ দিন কারাভোগের পর গত ৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান গউছ। ২৩ জানুয়ারি মেয়র জি কে গউছকে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ২৩ মার্চ থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।অতঃপর রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাঁর বরখাস্তের আদেশ পৌরসভায় পৌঁছায়।

বরখাস্তের আদেশ শোনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মেয়র জি কে গউছ বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’