বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭

বিষাক্ত মাছ ক্রেতাশূন্য সিলেটের মাছবাজার

স্টাফ রিপোর্ট: সুনামগঞ্জে জেলাজুড়ে প্রশাসন থেকে মাইকিং করে হাওরের বিষাক্ত মাছ না খেতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানোর পর আতঙ্কে বাজার থেকে মাছ কেনা ছেড়ে দিয়েছেন সিলেটের মানুষ। কারণ সিলেটের বাজারগুলোতে মাছের বড় একটি অংশ আসে সুনামগঞ্জের হাওর থেকে। আর এ কারণেই নগরীর সবকটি মাছ বাজার এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য।

মাছের আমদানি কমেছে কয়েক শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে মাছ ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। অনেকে ব্যবসাও ছেড়ে দিয়েছেন। গত ১৫ দিনে মাছ ব্যবসায়ীরা ১ কোটি টাকা কমিশন লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তবে মাছের বাজার ক্রেতাশূন্য হলেও নগরের সবকটি মাংস ও মোরগের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
লালবাজারের মোরগ ব্যবসায়ী জাবেদ আহমদ ও রাজু আহমদ জানান, গত দুই সপ্তাহে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ মোরগ বিক্রি হয়েছে।


লামাবাজারের বাসিন্দা মোরগ ক্রেতা প্রেমানন্দ জানান, বাজারে মরা মাছ বিক্রি হচ্ছে। পরিবারের মানুষ এই মুহূর্তে এসব মাছ খেতে চাই না। তাই ৪টি মোরগ কিনলাম। শুনেছি এখন মাছ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে।

নগরের প্রধান মাছের বাজার লালবাজারের গিয়ে কথা হয় ব্যবসায়ী মখলিছ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ১০ দিন যাবৎ মাছের ব্যবসা বাদ দিয়েছি। গত ১৫ দিন থেকে মাছের বিক্রি একেবারে কমে গেছে। এখন তিনি বাজারে আসেন সময় কাটাতে। ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত টাকার সবই লোকসান হয়েছে তার।
তিনি বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে বড় কষ্টে আছি। ব্যবসা নেই, টাকাও নেই।

সিলেট সদর মৎস্য আড়তদার কল্যাণ সমবায় সমিতি সূত্র জানায়, প্রতিদিন কাজিরবাজারে ১৫ কোটি টাকার মাছ আমদানি হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটের এই ঐতিহ্যবাহী মৎস্য আড়তে মাছ আমদানি করা হয়। এ বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি হয়। সেটাও এখন বন্ধ রয়েছে। সমিতির অধীনে ১২০টি প্রতিষ্ঠান পাইকারি মাছ বিক্রি করে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে আরো ৮০টি।

সমিতি সূত্র আরও জানায়, বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১ কোটি টাকার মাছ আমদানি করা হয়। তাও বিক্রি করা যাচ্ছে না। ১ কোটি টাকার মাছের মধ্যে অনেক মাছই থেকে যাচ্ছে। সেগুলো বেশি দিন সংরক্ষণ করতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পচা মাছগুলো পুঁতে ফেলা হচ্ছে মাটির নিচে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বসে থাকলেও, ক্রেতা নেই। অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। নগরের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত কাজিরবাজার, লালবাজার, আম্বরখানা, ভার্থখলার মসজিদ বাজারসহ সবকটি বাজারই এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য।

লালবাজারে মাছ কিনতে আসা সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুকুরের মাছ পেলে নিয়ে যাব। সরকারের নিজ উদ্যোগে হাওরে মাছ মরার কারণ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত চালানো জরুরি।

নগরের কুয়ারপার এলাকার বাসিন্দা হাসানুর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের মাছ বিষাক্ত হয়েছে। কিন্তু অন্য এলাকার মাছ খাওয়া বিপজ্জনক নয়। তবে মাছের গায়েতো লেখা নেই, হাওর নাকি পুকরের? সিলেটের নাকি বাইরে কোনো জেলার। তাই মাছ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। বাধ্য হয়ে গরু ও মোরগের মাংস আর শাকসবজি খাচ্ছি।

মাছ ব্যবসায়ী দারা মিয়া জানান, এখন হাওরের মাছ আমরা কিনছি না। কারণ মানুষ মাছ কিনছে না। সবাই আতঙ্কিত। স্থানীয় মাছ পেলে বিক্রির জন্য কিনি। তাও কেনা দাম ওঠে না। লোকসানে বিক্রি করতে হয়। গত ১৫ দিন থেকে এমন চলছে বলে জানান তিনি।