সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭

গোয়াইনঘাটে যৌতুক না পেয়ে অমানবিক নির্যাতন

নিউজ ডেস্কঃগোয়াইনঘাটে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় অমানুষিক নির্যতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তিন সন্তানের জননী নির্যাতিত হোসনেয়ারা বেগম (২৫) গোয়াইনঘাট উপজেলার কাকুনাখাই গ্রামের ইব্রাহীম আলীর মেয়ে ও একই গ্রামের সায়েদ আহমদের স্ত্রী। এ ঘটনায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গতকাল রোববার সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, গোয়াইনঘাট উপজেলার কাকুনাখাই গ্রামের আবু বকরের পুত্র সায়েদ আহমদের সাথে ২০০৮সালের ১৪এপ্রিল বিয়ে হয় হোসনেয়ারার। বিয়ের পর কয়েকদিন সুখের ছিল তার সংসার। পরবর্তীতে স্বামী মাদকসেবী ও পরনারীমূখী হয়ে হোসনেয়ারার বিয়েকালীন দেয়া উপহার সামগ্রী বিক্রি করে ফেলে। একপর্যায়ে স্বামী সায়েদ আহমদ ও তার স্বজনরা দোকানের নামে হোসনেয়ারার কাছে ৩লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় হোসনেয়ারার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। যৌতুকের দাবিতে গত ২১ জানুয়ারী হোসনেয়ারাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে স্বামী সায়েদ ও তার স্বজনরা। সন্তানদের দিকে চেয়ে এ পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর ঘর আঁকড়ে ধরে রাখেন হোসনেয়ারা। গত ২৫ মার্চ রাতে যৌতুকের দাবিতে স্বামী সায়েদ ও তার স্বজনরা হোসনেয়ারার উপর আবারো চালায় অমানুষিক নির্যাতন।
পরদিন সকালে তিনসন্তানসহ গুরুতর আহত হোসেনয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন স্থানীয় মেম্বার ও পিত্রালয়ের লোকজন। এর পর থেকে গৃহবধূ হোসেনেয়ারা তিনসন্তান নিয়ে তার পিত্রালয়েই অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সে মোতাবেক হোসনেয়ারা ৩ এপ্রিল সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশা মামলা (নং-২৮৮/১৭) করেন। মামলায় হোসনেয়ারা তার স্বামী সায়েদ আহমদ, দেবর সহিদ আহমদ, শশুর আবুবক্কর ও চাচা শশুর রহমত আলীকে আসামী করেন। আদালত মামলা গ্রহণপূর্বক তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন।