শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০১৭

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক মসজিদ

ক্যামব্রিজে শহরে প্রায় ৬ হাজার মুসলিম বসবাস করে। মসজিদটি নির্মিত হচ্ছে ক্যামব্রিজ শহরের মুসলিম অধিবাসীদের দাবিতে। তাদের অভিযোগ শহরের মসজিদটি খুবই ছোট। তাই মাঝে মাঝে তাদের রাস্তায় নামাজ আদায় করতে হয়। এজন্য অনেক মুসলিম মসজিদে আসার আগ্রহ হারাচ্ছে।
বিশ্ব বিখ্যাত ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামব্রিজে নির্মিত হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক মসজিদ। তুর্কি সরকারের অর্থায়ন ও তত্ত্বাধানে নির্মিত হবে এই মসজিদ। মসজিদের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।


৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী কাজে সিমেন্টের সঙ্গে মেশানে হয়া জমজম কূপের পবিত্র পানি। মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় ১৮ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার খরচ হবে। মসজিদের আন্ডারগ্র্উান্ডে থাকবে কার পার্কিংয়ের সুবিধা। আশা করা হচ্ছে আগামী জুনে নির্মান কাজ শেষ হবে।

২য় ফ্লোর হবে খোলা ছাদ। মসজিদের মূল অংশে সাতশো মুসল্লিসহ মোট এক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। মহিলাদের জন্য পৃথক আয়োজন থাকবে। যেখানে তিনশো জন নামাজ আদায় করতে পারবে। নারীদের নামাজের হলের নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হবে। ক্যামব্রিজ মসজিদ নির্মাণে নারীদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যামব্রিজ মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, মসজিদের নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনে মুসলিম নারীদের জোরালো ভূমিকা রয়েছে। ক্যামব্রিজের এক ছাত্রী বারাকা খান ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পূর্বে দুই লাখ ডলার দান করেছেন মসজিদের উন্নয়ন কাজে।

সে ক্যামব্রিজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষকও হন। মসজিদে নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা থাকবে। যেমন, নারীদের জন্য পৃথক ইবাদতস্থান, শব্দরোধী মাতৃকেন্দ্র, নারী চিকিৎসা কেন্দ্র। চিকিৎসা কেন্দ্রে নারীদেরকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হবে। মসজিদে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক লাশ গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে একটি ক্যাফে এবং ডিজিটাল কুরআনিক স্কুল। একটি মনোরম বাগান যা সাজানো হবে কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল ও উপকারি গাছ-গাছালি দিয়ে। বাগানটি উম্মুক্ত থাকবে সর্বসাধারণের জন্য। তুর্কি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করতে দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে তুর্কি গ্যালারি। গ্যালারিতে থাকবে কার্পেট, কাঁচের আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প।
মুরাদ বলেছেন, মসজিদটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে। মসজিদে ব্যবহার করা হবে সৌর বিদ্যুত, পানি শোধন পদ্ধতি, জৈব জ্বালানি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি শক্তি ও তাপশক্তি চালিত পাম্প। মুরাদ বলেন, আমরা  এর মাধ্যমে দেখাতে চাই মসজিদগুলো কেমন পরিবেশ বান্ধব হওয়া উচিৎ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারে ইসলামের নীতিমালা কী।

আবদুল হাকিম মুরাদ বলেন, এই শহরে এমন একটি মসজিদের বিশেষ প্রয়োজন ছিলো। কেননা ক্যামব্রিজ হলো জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তির আন্তর্জাতিক রাজধানী। এখানে নিউটন, ভিটগেনস্টাইন ও ডারউনের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিরা পড়েছেন। পৃথিবীরে সেরা ছাত্ররা এখানে ভর্তি হন এবং তারাই আগামী পৃথিবীর নেতৃত্ব দিবে। ক্যামব্রিজে গত ২০ বছর ধরে ইসলামিক স্টাডিজ পড়ছেন এবং পড়াচ্ছেন আমি মনে করি, আমার দায়িত্ব হলো তাদেরকে ডেকে এনে এ প্রজেক্ট দেখানো।
আধুনিক ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম গর্ব করার মতো মসজিদ দেখতে চায়। তারা চায় এমন মসজিদ যার ঐতিহাসিক মূল্য থাকবে, মুসলিম  ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করবে। ব্রিটিশ জনগণের কাছে আমরা এমন একটি মসজিদ তুলে ধরতে চাচ্ছি। শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে নির্মিত এ মসজিদ মিশ্র সংস্কৃতির প্রবাহে ইসলামি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করবে এমনটিই আশা করছে ক্যামব্রিজ মসজিদ ট্রাস্টের সদস্যগণ।

সূত্র:ইন্টারনেট