রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

গত তিনমাসে রাজনগরে ২১টি ট্রান্সফরমার চুরি

আজকাল রিপোর্ট:মৌলভীবাজারের রাজনগরে গত তিনমাসে ২১টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বারবার টাকা খরচ করে ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে হাজারো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধের দাবিতে স্থানীয় গ্রাহকেরা ইতোমধ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। তারপরও থামছে না ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। চুরি হওয়ার পর নতুন করে লাগানো ট্রান্সফরমারও চুরি হয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহলাল এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।



তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকেরা ৪২ হাজার টাকা দিয়ে গত ৫ জানুয়ারি ট্রান্সফরমারটি পুনঃস্থাপন করেন। আর চোরচক্র যাতে চুরি করতে না পারে সে জন্য চোখে পড়ে এমন একটি স্থানের খুঁটিতে ট্রান্সফরমার লাগানো হয়। এরপরও গত ২৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সেটি চুরি হয়ে যায়।

গত ২৫ জানুয়ারি রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের টেংরা থেকে দুটি ও দত্তগ্রাম এলাকা থেকে আরও একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে এই দুই গ্রামের শতাধিক গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রাজনগর উপজেলা কার্যালয়ের আওতাধীন রাজনগর উপজেলায় ১৮টি এবং কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে তিনটি ট্রান্সফরমারসহ মোট ২১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর, টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেশি। এখন পর্যন্ত ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে ট্রান্সফরমার চুরির প্রতিকার চেয়ে মনসুরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহলাল, উত্তর মহলাল, আশ্রাকাপন, বকসিকোনা, চাটুরা, পঞ্চেশ্বর, বড়কাপন ও ধনিউড়ি গ্রামের লোকজন গত ২৯ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের রাজনগর উপজেলার মহলাল বাজারে মানববন্ধন করে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেয়।

দক্ষিণ মহলাল গ্রামের ইমরান আহমেদ বলেন,পরপর তিনবার ট্রান্সফরমার চুরি হলো। ট্রান্সফরমার শেকল-তালা দিয়ে রাখা ছিল, তারপরও চুরি ঠেকানো যায়নি। এলাকার ২২ পরিবার এখন অন্ধকারে।

রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের কার্যালয়ের আওতায় ২১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। মামলা দিচ্ছি, কিন্তু এখনও চোর ধরা পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের জায়গায় নতুন ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপন করতে গ্রাহকদের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এরপর চুরি হলে ট্রান্সফরমারের পুরো মূল্য দিতে হয় গ্রাহকদের।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রাজনগর উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মিটিং করছি।
তিনি আরও বলেন, গত তিন মাসে অন্তত সাত-আটবার এলাকায় মাইকিং করছি। মানুষকে বলছি আপনারা একটু সজাগ থাকুন। এরপরও চুরির ঘটনা ঘটছে।

রাজনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।