বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

রাগীব আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি

নিউজ ডেস্ক:প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা-বাগানের ভূমি আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি জানা যাবে এই মামলায় এই দুইজন ছাড়াও অন্য চারজনের কী সাজা হবে।

এ ব্যাপারে ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান জানান, প্রতারণার মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। আজ বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে সাইফুজ্জামান হিরো প্রতারণা মামলার রায়ের দিন ঠিক করে দেন।

পিপি মাহফুজুর বলেন, “বিচারক প্রতারণা মামলার রায় দেবেন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। ”

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ওই চা-বাগানের বন্দোবস্ত নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব ও তার ছেলে হাইকে চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। এই রায়ে কারাদণ্ড ছাড়াও দুই আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে এই মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সিলেট জজ আদালতে আপিল আবেদন দাখিল করেছেন রাগীব ও তার ছেলে হাই। আগামী ৮ মার্চ আপিল গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত।

প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে তারাপুর চা-বাগানের ৪২২ দশমিক ৯৬ একর দেবোত্তর সম্পত্তি রাগীব আলী দখল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ২৫ অগাস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারাপুর চা বাগান নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। পরে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এর পরে উপ-কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশে তারাপুর চা-বাগান অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলপত্র সৃষ্টি করে প্রতারণামূলকভাবে লিজি হিসেবে দখলে রাখার জন্য রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয়বিধ মামলা করতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাজার কোটি টাকার ওই ভূ-সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন সিলেট সদরের তৎকালীন ভূমি কমিশনার এসএম আব্দুল কাদের। 

এ ছাড়াও পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূসম্পত্তি দখল করার অভিযোগে আরো একটি  মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে আব্দুল হাই, মেয়ে রেজিনা কাদির, জামাতা আব্দুল কাদির, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় দেওয়ান আব্দুল মজিদ ও চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে আসামি করা হয়। 

তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ জুলাই আদালতে দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।
সূত্র:কালেরকণ্ঠ