মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

বানিয়াচংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশ ইউনিয়নের ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। জরাজির্ণ ভবন হওয়ায় যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। দ্রুত এই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই টিনের ছাউনি দিয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে পানি পড়ে। একটু একটু করে অনেক স্থানের চাউনিও উড়ে গিয়েছে। তাছাড়া ফাটল দেখা দিয়েছে দেয়ালের অনেক স্থানে।

এ অবস্থায় অভিভাবকরা সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আতংঙ্কে থাকেন। অনেকে নিজের কলিজা ছেড়া ধনকে স্কুলে পাঠাতেও চান না। এতে করে একদিকে যেমন পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি আতঙ্কে স্কুলে না গিয়ে লেখা পড়ায় পিছিয়ে পড়ছে অনেক শিশু।
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৬২ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর এলজিইডি এই বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করে। এর পর আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ বা এই বভনের সংস্কার করা হয়নি। ফলে ধিরে ধিরে এই ভবনটি জরাজির্ণ হয়ে পড়ে।বিদ্যালয়ে ৪টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে অফিস রুম আর ২টি কক্ষ অতি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটি রুমেই চলছে ৫টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কোন সুযোগ নেই বললেই চলে।
এদিকে, শিক্ষক সঙ্কটেও রয়েছে এই বিদ্যালয়টি। ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন দিনের পর দিন ছুটি আর ট্রেনিংয়ের নামে সময় পার করে দিচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শরিফ উদ্দিন শাহ্ জানান, ‘শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন কি দূর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না। অনেক সময় মনে হয় তাদেরকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে দেই। কারণ লেখা পড়ার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।’
অভিভাবক সমুজ মিয়া জানান, ‘বাচ্চাদের নিয়মিত স্কুলে যেতে নিষেধ করে দিয়েছি। এতে করে তারা লেখা পড়ায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘লেখা পড়ায় পিছিয়ে পড়লে কি করব। জীবনের চেয়ে আর লেখা পড়া বড় না। আবার বর্তমান পৃথিবীতে লেখা পড়া না করলে বেঁচে থাকাও অর্থহীন। সব মিলিয়ে আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। কি করব বুজতে পারছি না।’

সমুজ মিয়া বলেন, ‘দ্রুত এই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করলে এই এলাকার শিশুদের উপকার হত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন যত দ্রুত সম্ভব এই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সাংবাদিক নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ‘সবসময় আতঙ্কে থাকি কখন কি ঘটে। সিলেট অঞ্চলে কয়েক দিন পর পরই ভূমিকম্প হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাংঙ্খিত যেকোনো ঘটনা। তাছাড়া সামনে ঝড়-বৃষ্টির দিন আসছে, এতে করে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যাচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, ‘স্কুলের যে অবস্থা, যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের কোন দূর্ঘটনা। বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টি হলে জরাজির্ণ টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে ক্লাস রুম ভেসে যায়। বিদ্যালয়ে টিনের ছাউনি উঠে গেছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের চার পাশের দেয়ালে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু এই বিদ্যালয়টি নয়। বানিয়াচং উপজেলায় আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এগুলো সংস্কারের অনুমোদন আসবে।