রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট কমাচ্ছে বিমান

নিউজ ডেস্ক:শিডিউল বিপর্যয় এবং লোকসান কমাতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট সংখ্যা কমাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ২২টি রুটে সপ্তাহে ৩৬৬ ফ্লাইট যাতায়াত করতো বিমানে। এ সংখ্যা কমিয়ে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কোনও রুট বন্ধ করা হচ্ছে না।

অভ্যন্তরীণ ৭টি এবং আন্তর্জাতিক ১৫টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান । এর মধ্যে সপ্তাহে রিয়াদে ৬টি, জেদ্দায় ৭টি, দাম্মামে ৩টি, কুয়েতে ৩টি, মাস্কাটে ৭টি, আবুধাবিতে ৭টি, দুবাইয়ে ৭টি, দোহায় ৩টি, কুয়ালালামপুরে ১০টি, সিঙ্গাপুরে ৭টি, ব্যাংককে ৭টি, ইয়াঙ্গুনে ৩টি, কলকাতায় ১৪টি, কাঠমাণ্ডতে ৭টি, লন্ডনে ৪টি ফ্লাইট চলতো। এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে বিমান। ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুটে যাত্রী সংখ্যা কম।


বর্তমানে বিমান বহরে রয়েছে চারটি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও দুটি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। এ ছাড়া বহরে রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদী লিজে সংগ্রহ করা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ এবং দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান। আর অভ্যন্তরীণ ৭টি রুটের জন্য রয়েছে ২টি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ বিমান।

বিশ্ব বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে এভিয়েশন জেট ফুয়েলের তুলনামূলক অধিকমূল্যের কারণে পরিচালন ব্যয় বেশি। অনেক রুটে যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় আয় কম হচ্ছে। এছাড়া এক রুটে থাকা একাধিক ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস করারও পরিকল্পনা রয়েছে। ৭টি অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য বিমান বহরে রয়েছে মাত্র দুটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ বিমান। বহরের একটি বিমান মেরামতের জন্য হ্যাঙ্গারি নেওয়া হলেই শিডিউল বিপর্যয়ে পড়তে হয়। আর ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য বিমান বরাদ্দ করলে সে চাপ পড়ে ফ্লাইট শিডিউলে। আন্তর্জাতিক রুটেও ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে আরও বিমান প্রয়োজন।

বিমানের মার্কেটিং বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে বিমানের বহরে যে পরিমাণ বিমান দরকার তা নেই। এরপরও ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে শিডিউলে প্রভাব পড়ছে। বিমানের ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। এতে যেমন লোকসান কমবে, তেমনি শিডিউল ঠিক থাকবে।

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কানাডার এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার হতে তিনটি ব্র্যান্ডনিউ ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ বিমান ক্রয় করতে যাচ্ছে বিমান। ‘জিটুজি’ পদ্ধতিতে বিমানগুলো ক্রয় করা হবে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিমান বহরে যুক্ত হবে ব্র্যান্ডনিউ ৪টি বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭ বিমান।

জ্বালানি তেলের প্রভাব প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইনামুল বারী বলেন, ‘বর্তমানে জেট ফুয়েলের দাম আস্তে আস্তে বাড়ছে। আমাদের দেশে অন্যদেশের তুলানায় অনেক বেশি। একটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশনাল কস্টের ৪০-৪৫ ভাগ জ্বালানি তেলের খরচ। অর্থাৎ তেলের দাম এক সেন্ট বেড়ে গেলেও হিসাব পাল্টে যায়। যে ফ্লাইট দেশের বাইরে যাচ্ছে সেখান থেকেই তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় আমরা ট্যাংকারিংও করি। কারণ ঢাকা থেকে অন্য সব জায়গায় তেলের দাম কম।

ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এই মুহূর্তে কোনও রুট বন্ধ করতে যাচ্ছি না। তবে রিশিডিউল করা হবে। হয়তো কোথাও সপ্তাহে প্রতিদিন ফ্লাইট আছে সেগুলো কমিয়ে আনাবো। অর্থনৈতিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করে দেখছি। নতুন রুট চালু করতে আমরা একটু সময় নেবো। আমাদের বহরে এখন যে পরিমাণ বিমান আছে, সেগুলো দিয়ে নতুন রুট চালু করা সম্ভব না। আমাদের দুটি এয়ারবাস গ্রাউন্ড হয়েছে, ফলে বিমান বহর থেকে দুটি বিমান কমে গেছে। যে কয়টি রুটে ফ্লাইট আছে, সেগুলো আমরা অন টাইমে যেতে চাই। আরও দুটি রুট বাড়িয়ে সব রুটে টাইম মতো যেতে না পারলে বদনাম হবে।

নতুন বিমান সংগ্রহ প্রসঙ্গে ইনামুল বারী বলেন, ‘আমরা অভন্তরীণ রুটে তিনটি বিমান জিটুজি’তে কানাডা থেকে কেনার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি অচিরেই সম্ভব হবে। দুটি বিমান দিয়ে ৭টি রুট পরিচালনা কঠিন। বিমানের ভাবমূর্তি উন্নতির জন্য আমরা কাজ করছি। বিমানকে আমরা মর্যাদা পূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। যাত্রী সেবাকে প্রাধ্যান্য দিতে চাই। অনটাইম পারর্ফমেন্সে আমরা অনেকটা ইমপ্রুভ করেছি গত কয়েক মাসে।
সূত্র:বাংলাট্রিবিউন