বুধবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৭

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সফল ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সংঘটনের পথপ্রদর্শক জনাব আজমল হোসাইন



শ্রদ্ধেয় আজমল হোসাইন দীর্ঘ দিন যাবত প্রবাসে রয়েছেন.তিনি আমাদের বাংলাদেশের সফল প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম.তিনি ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এক সাহসী যুদ্ধা ছিলেন.তিনি আমাদের দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন তিনি দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং নিজের সহযোগিতার হাত খুলে দিয়েছেন.

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং সিলেট এম সি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেছেন.তিনি ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং এক সময় তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এর ছাত্রনেতা ছিলেন.

তিনি আজ কথা বলেন আমাদের সিলেট আজকাল এর সম্পাদক এম এ সামাদ এর সাথে.উনার বর্ষীয়ান জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তিনি আমাদের বলেন;চলুন জেনে নেই এই বিশেষ ব্যক্তির জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা.

প্রবাস জীবন:১৯৭৬ সালের ১০ অক্টোবর আমি সুইডেন এ পারি জমাই.আমি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তিতে সুইডেন সরকার কাছে আবেদন করি এবং সুইডিশ সরকারের পক্ষ থেকে আমার আবেদন গৃহীত হয় এবং আমাকে সুইডেন এর নাগরিকত্ব দেয়া হয়.


বাংলাদেশ থেকে সুইডেন এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর আমি প্রথমে চেষ্টা করি সুইডিশ ভাষা রপ্ত করার. আমি একটি স্কুলে ভর্তি হই ভাষা শিক্ষার জন্য.আমার জীবনের প্রথম চাকরি বা কাজ ছিল কলেজ ও বিশবিদ্যালয়ের ক্লিনার হিসেবে.আমার চাকরি জীবনের তিন বৎসর পর আমি উদ্বেগ নেই ব্যবসা করার.আমি সুইডেনের সর্ব প্রথম হালাল মিট শপ চালু করি যা সর্ব স্তরের মানুষের কাছে বিশেষ করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে জনপ্রিয়তা পায়.১৯৮৮ সালে আমি হালাল মিট শপ এর পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ও শুরু করি.আমি আমার রেস্টুরেন্ট এর শেফ ছিলাম.আমি খাবার ব্যবসায় ভালো ব্যবসা করি এবং সুইডেনের স্টোকহোম এ আমার আরো ও রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলি.আমি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি প্রপার্টি ও স্টক মার্কেট ব্যবসায় ও যুক্ত হই.

ইংল্যান্ড জীবন:আমি ১০ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে সুইডেন থেকে ইংল্যান্ড এ পারি জমাই আরো ভালো ব্যবসা করার জন্য.আমার ধারণা ছিল ইংল্যান্ড এ ও আমি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ভালো কিছু করতে পারবো.আমি লন্ডনের ব্রিক লেন এ সর্ব প্রথম রেস্টুরেন্ট "প্রীম"ইন্ডিয়ান কারি হাউস চালু করি যা এক সময় লন্ডনের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ছিল.এখন ব্রিকলেনে পঞ্চাশটির উপর রেস্টুরেন্ট রয়েছে এবং ব্রিকলেন কে ইউরুপের কারি রাজধানী ও বলা হয়.

রাজনৈতিক জীবন:জর্জ গেলাওয়ে এক সময় ইংল্যান্ড এর রাজনীতিতে খুব পরিচিতি পায়.তিনি মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে আলোচিত ও সমালোচিত হন.আমি জর্জ গেলাওয়ের সমর্থিত দল রেস্পেক্ট পার্টির কো ফাউন্ডার ছিলাম.আমি বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির জি.সি সদস্য এবং গ্রেট ব্রিটেন আওয়ামীলীগ এর কাউন্সিল সদস্য.

বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোক্তা:আমি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ড,গুলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট,সিলেট সদর এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী সদস্য ও বাঘা ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রাক্তন ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এখন আমি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আছি.আমি এই সকল সংগঠনের উন্নয়নের জন্য আমি সবসমই সময় দেয়ার চেষ্টা করি.এই সকল সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আমি নিজ রেস্টুরেন্ট এ প্রোগ্রাম করেছি এবং এই সকল সংগঠনকে সচল রাখার জন্য সকল সদস্য এবং দাতাদের কাছে আহব্বান করেছি.

ইংল্যান্ড রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান:লন্ডনের মেয়র ইলেকশনের নির্বাচিত সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান যিনি ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে জয় লাভ করেন এবং লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস্ এর মেয়র নির্বচিত হন.আমি ইলেকশনের সময় আমার সমর্থিত প্রার্থী জন ভিক্স এর পোলিং এজেন্ট ছিলাম.আমি লুৎফুর রহমানের ভোট জালিয়াতি দেখতে পাই আমি এই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম এবং আমার সমর্থিত দল কে নির্বাচনের এই করুন অবস্থা নিয়ে অবহিত করি.পরিস্থিতি বুঝতে পেরে লুৎফুর রহমান এর সমর্থিতরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে.আমি লন্ডনের আদালতে লুৎফুর রহমান এর বিরুদ্ধে সাড়ে চার লক্ষ পাউন্ড এর ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিয়ে মামলা করি.

অবশেষে কোর্টের মাধ্যমে লুৎফুর রহমানের ভোট জালিয়াতি প্রমাণিত হয় এবং মেয়র পদ হইতে বহিষ্কার করা হয়.২০১৭ সালের জানুয়ারির ২ তারিখে লুৎফুর রহমান এর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু হয়েছে.আমার ধারণা ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে.