শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৭

শ্রীমঙ্গলে বিজিবির আক্রমণে গুলিবিদ্ধ ৬, আহত ২০

নিউজ ডেস্ক:মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)  সদস্যদের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয় জন গুলিবিদ্ধসহ মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় আতঙ্কে সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় বিজিবি সদস্যরা শতাধিক দোকানপাট ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে- সুকুমার দাস, শাহ আলম ও পবিত্র পালকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। পরে পবিত্র পালের অবস্থার অবণতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  দিকে উপজেলার পানসী রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে আসেন বিজিবির একজন কর্মকর্তা। এ সময় কথাকাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় এক পরিবহন শ্রমিক ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এতে ওই কর্মকর্তা আহত হন। এ খবর বিজিবি  সেক্টরের সদরদফতরে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করেন। বিজিবি সদস্যরা নির্বিচারে দোকানপাট ও গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখেন।



শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ‘এক পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তার বাকবিতণ্ডার জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। আহত ছয় জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এদিকে রাত সাড়ে সাতটার দিকে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনীতে স্থানীয় প্রশাসনের বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ে সভা করে। এতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদ, পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর দেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের  কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক সংঘর্ষের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর দেব জানান, ‘পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিজিবি সদস্যরা ব্যারাকে ফিরে গেছে।’