সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৭

বিদায়ী বছরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উত্তাল ছিল শাবি

সিলেট আজকাল : গত বছরজুড়েই বিতর্কিত হত্যাকাণ্ড ও নানান ধরনের কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মধ্যদিয়ে পার করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ঐ বছরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা নিচে তুলে ধরা হল:
শাবি ছাত্রলীগের নানা অপকর্ম  দীর্ঘ ১৪ বছর পর শাবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়।এ বছরের ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল শাবি শাখা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ও ১৯ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয় শাবি ভিসি। বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে অভিযুক্ত ও সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 
বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন রাজু, নজরুল ইসলাম রাকিব, মোশারফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান এবং অসীম বিশ্বাস। অক্টোবরে প্রধান ফটকের রেস্টুরেন্টে ভাংচুরের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে রাজুকে স্থায়ী অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় পর্ষদ। শোকের মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগ সাময়িক বহিষ্কার করে যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে। একই মাসে ফুটবল টুর্নামেন্টের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অন্তত সাতজন আহত হয়। সম্প্রতি দুগ্রুপের সংঘাত এড়াতে হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভর্তি জালিয়াতির কলংক বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভর্তি জালিয়াতির কলংক লেপ্টে যায়। ভর্তি জালিয়াতির চেষ্টায় শাবি ছাত্রলীগ কর্মীসহ আটজনকে আটক করা হয়। তবে জালিয়াতির চেষ্টা কিংবা গুজব ছড়ালে আইসিটি আইনে মামলা করা হবে এরকম ঘোষণা দিলেও ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অবস্থায় কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। উল্টো পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যের গড়মিলের কারণে এই জালিয়াতি চক্রের মূল হোতদের আড়াল করে দেয়ার অভিযোগ আসে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। ভর্তি জালিয়াত ইস্যুতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার বিরুদ্ধে ৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনের মুখে ঘটনায় ১৪ দিন পর ১১ ডিসেম্বর আল-আমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া এ বছর এ ইউনিটে মানবিক বিভাগ থেকে প্রথম স্থান অধিকারী মো. হোসাইন রাব্বির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ভর্তি নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ওই শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ডে ছবির সঙ্গে কোনো মিল না পাওয়া, স্বাক্ষর না মেলা কিংবা কোন কেন্দ্রে, কখন পরীক্ষা দিয়েছেন এরকম বলতে না পারায় অধিকতর তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বদরুল ইস্যু দেশব্যপী আলোচিত খাদিজা-বদরুল ইস্যুতে বেশ আলোচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ৩ অক্টোবর প্রকাশ্যে খাদিজাকে কোপায় শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। বদরুল শাবির অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। পরে কেন্দ্রীয় ও শাবি ছাত্রলীগ বদরুলছাত্রলীগের কেউ নয়দাবি করে দেশজুড়ে আরও সমালোচিত হয় বিষয়টি। এ ঘটনায় ক্রমান্বয়ে বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।
অধ্যাপকের গাড়ি চাপায় নিহত দুই ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এককিলো রোডেগাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক শেখ আতাউর রহমান ও তার চাচা মো. গিয়াস উদ্দিনকে গাড়িচাপা দেন ড. আরিফ। এ সময় তাৎক্ষণিক দুজন মারা যান। এছাড়া আতাউর রহমানের মেয়ে মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে নিহতের পরিবার এবং সিন্ডিকেটের ২০০তম সভায় ড. আরিফকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।
জঙ্গিবাদ ইস্যু জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৮ জুলাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ এবং ২ আগস্ট একই বিভাগের ইফফাত আহমেদ নাহিদকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ৩ আগস্ট মোহাম্মদ জুয়েল আহমদ নামে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী, ১৮ আগস্ট কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাদমান আবেদিনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত দুটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া বলেন, ভালো-মন্দ মিলিয়েই একটি বছর পার হল। কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা বাদ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছেন। সামনের বছরটিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সমাবর্তন, হল স্থাপনসহ বেশকিছু প্রজেক্ট হাতে আসছে বলে জানান তিনি।