বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৭

দুই বছর কারা ভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন আরিফুল হক

আজকাল রিপোর্ট : সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। ওইদিন আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এরপর থেকেই কারাবন্দি আছেন আরিফ। বছর পাঁচদিন পর গতকাল বুধবার মুক্তি পান সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র এই বিএনপি নেতা। মাঝখানে মায়ের অসুস্থতার কারণে ১৫দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো তাকে।
আরিফুল হকের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু সায়েম জানান, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে তাঁর মুক্তির আদেশটি আসে। তারপর নিয়মিত প্রক্রিয়া শেষে আরিফুল হককে ৪টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 
আরিফুল হক সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এস কিবরিয়া ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বিস্ফোরণ ও হত্যা মামলারও আসামী। এই দুটি ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট চারটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ২০১৪ সালের গত ২১ ডিসেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এদিকে, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা হলে এক যুবলীগকর্মী নিহত হন। দুটি মামলাতে আসামি করা হয় আরিফুলকে। নির্বাচিত মেয়র হলেও এ মামলার কারণে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে আরিফুল হককে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফ।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি জানান, বিপদে-আপদে সিলেটের মানুষ তার সঙ্গে ছিলেন, আর তাদের নিয়েই তিনি সিলেটের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে চান।