মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী, ২০১৭

ব্রিটেনে রাণীর পক্ষ থেকে ‘এমবিই’ খেতাব পাওয়া ৩ সিলেটি

বিশেষ ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটেনে বিশেষ কৃতিত্ব ও অবদানের জন্য প্রতি বছর রাণীর জন্মদিন ও নববর্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সম্মাননা খেতাব প্রদান করা হয়। ১৯১৭ সালে চালু হয় এই খেতাব প্রদান। ব্রিটেনের অন্যতম রাজকীয় সম্মাননাএমবিইখেতাবে পাওয়া বাংলাদেশীদের প্রায় অধিকাংশই সিলেটি। এ সম্মাননা শুধু সিলেট বাসীর সুনাম নয়, বাংলাদেশীদের জন্য একটা বড় অর্জন। প্রতি বছর সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাণীর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় এ মর্যাদা। ব্রিটেনসহ গোটা বিশ্বের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে থাকে এ স্বীকৃতি।
ব্রিটেনের রাজকীয় সম্মাননা এমবিইখেতাব পাওয়া ৩ জনের কথা তুলে ধরা হলো।


বজলুর রশিদঃ

২০১২ সালে এমবিইমনোনীত হয়েছিলেন বাংলাদেশি রেস্তারাঁ সমিতির তৎকালীন সভাপতি বজলুর রশীদ, এমবিই। শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ব্রিটেনের শীর্ষ বেসামরিক রাজকীয় পদক বিজয়ী বজলুর রশিদ এমবিই একজন সফল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। ১৯৮০ সালের শুরুতে উদীয়মান রেস্তোরাঁ ব্যবসায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা শুরু হয় তার। ২০০৬ সাল থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। জানা যায়, বর্তমানে এ সমিতির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে ব্রিটেনের সর্বাধিক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ।

বজলুর রশীদের জন্ম সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বলিয়াকান্দি গ্রামে। ১৯৭৮ সালে প্রথম লন্ডন আসেন তিনি। সেই থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের সাথে তিনি জড়িত রেখেছেন নিজেকে। প্রথম বছরেই ভাইয়ের সাথে অংশীদার ভিত্তিতে কেন্টের ডোভারে একটি রেস্তোরাঁ খোলেন বজলুর রশিদ এমবিই। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিগগিরই আরো অনেকগুলো ব্যবসা চালু করেন তিনি। এক পর্যায়ে অ্যাশফোর্ডের ভেতরে ও আশেপাশে ১৬টি রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠে তার। এছাড়াও তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আবাসন কোম্পানি, একটি বীমা কোম্পানি, একটি অবকাশকেন্দ্র, বাংলাদেশে একটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালের পাশাপাশি তিনটি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

ফয়েজ উদ্দিনঃ

একই বছর বৃটেনের রাণী কর্তৃক এমবিই খেতাবে ভূষিত হয়েছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী,যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের প্রথম বৃটিশ বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল অফিসার মো.ফয়েজ উদ্দিন। সম্প্রতি বাকিংহাম প্যালেসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই খেতাব ও পদক প্রদান করেন বৃটেনের রানী। ফয়েজ উদ্দিন এমবিইর জন্মস্থান সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.আলাউদ্দিনের ছোট ভাই। ফয়েজ উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাজ্য গমণ করেন। তিনি লন্ডনের সিটি ব্যাংকিং কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন।যুক্তরাজ্যে যাবার পর থেকেই তিনি বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন ও পরবর্তীতে কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রিন্সিপাল অফিসার নিযুক্ত হন। অভিবাসী বাংলাদেশী ও ক্ষুদ্র জাতি সত্বার বৃটিশ নাগরিকদের জন্য তার সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি বৃটিশ রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ সন্তানের জনক।

তৈয়বুর রহমানঃ

ব্রাডফোর্ডের বাসিন্দা সমাজসেবী তৈয়বুর রহমানের খেতাব নেওয়া হয়নি। এর আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। গত নভেম্বরে তিনি পরলোক গমন করেন। জানা যায় তার পরিবারের সদস্যরা ব্রিটেনের রানীর কাছ থেকে খেতাব গ্রহন করবেন। জনাব তৈয়বুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সুপরিচিতি। ব্রাডফোর্ড লোকাল অর্থরিটিতে সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ৫০ টি পরিবারকে শিশু দত্তক নিতে সহায়তা করেন তিনি। এই কাজের স্বীকৃতির জন্য এমবিই খেতাব পেলেন এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি। ১৯৪৩ সালে সিলেটে জন্ম নেওয়া তৈয়বুর ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন। ব্রাডফোর্ডে সত্তরের দশকে উত্তরা ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করা তৈয়বুর ব্রাডফোর্ডের বৃহত্তম বাংলাদেশি কমিউনিটি সংঘটন বাংলাদেশ পিপলস অ্যাসোসিয়েশনএর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।