মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭

দ্রুতগতিতে হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণ কাজ চলছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:আইসিটি শিল্পের বিকাশে হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছে।

আইটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় আইসিটি শিল্পের প্রসারে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি রফতানি পাঁচ বিলিয়ন ডলার ও আইটি পেশাজীবীদের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সম্প্রতি বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এগিয়ে যাওয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিগত তিন বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কার্যক্রম এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

যেসব হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছে সেসবে মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে।

কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি : ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর আওতায় এর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাঁচটি ব্লকে বিভক্ত দুটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২ ও ৫ নং ব্লকের উন্নয়ন করছে সামিট টেকনোসিটি লিমিটেড, অন্যদিকে ৩নং ব্লকের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে ফাইবার অ্যাট হোমের কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড। পার্কটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার ওয়েসিটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান এবং সৌদি আরবের আল রাজি গ্রুপের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে ইতোমেধ্যে।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক : যশোরে ১৩ একর জমির ওপর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ৮৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ তলাবিশিষ্ট মূল ভবনের ১১ তলা এবং ১২ তলা ডরমেটরি ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। দুটি ভবনের বাকি অংশের কাজ এ বছরের এপ্রিল নাগাদ সম্পন্ন হবে।

জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর রাজধানীর জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও কানেকটিং স্টার্ট-অ্যাপসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি স্টার্ট-আপ কোম্পানিকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিড ফান্ড ও সার্বিক সহযোগিতাসহ এক বছরের জন্য বিনামূল্যে স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাকি ৪০টি কোম্পানিকে তাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীতা সাপেক্ষে সার্বিক সহযোগিতাসহ এক বছরের জন্য স্পেস ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৬টি কোম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে পিপিপি মডেলের আওতায় সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি স্থাপন করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি এ সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পার্কের ভূমি উন্নয়নসহ প্রাথমিক অবকাঠামো যেমন রাস্তা, স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ অব্যাহত আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরই ভবন নির্মাণ শেষ হবে।

সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন সেন্টার : সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এসব সফটওয়্যারের সার্টিফিকেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘সফটওয়্যার কোয়ালিটি পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ইতোমধ্যে এ সেন্টার স্থাপনের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট আহ্বান করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় সফটওয়্যারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি : রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি নামে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমতি দেয়া হয়। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ দশমিক ৭০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৯ সালের মধ্যে। প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ বর্গফুটবিশিষ্ট ১টি ১০ তলা ভবন, ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ৩১ দশমিক ৬২ একর জমিজুড়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

১২টি আইটি পার্ক : অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইটি বা আইটিইএস শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি স্থানে যথাক্রমে গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজারের রামু, রংপুর, নাটোরের সিংড়া, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, খুলনার কুয়েটে একই ডিজাইনে আইটি পার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে ‘১২ আইটি পার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জনবল ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে অনুমোদিত হয়েছে।

বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণা : বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইনের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণার লক্ষ্যে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ গাইডলাইনের আওতায় ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি ৭টি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইসিটি শিল্পের বিকাশে হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে ওঠার বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি আমাদের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের জন্য প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগযোগ্য বিশ্বমানের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষেই এসব হাইটেক সিটি/পার্ক, আইটি ভিলেজ ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করছে।

তিনি বলেন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিকেন্দ্রিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করছে বলেই যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় সারাদেশে ২৮টি আইটি পার্ক নির্মাণ করছে। এসব আইটি পার্কই হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের লাইফলাইন।
সূত্র:জাগোনিউজ