সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৭

কমে যাচ্ছে মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের আগমন



সিলেট আজকাল : প্রতি বছরের দুই ঈদ, বাংলা নববর্ষ ও ইংরেজী নববর্ষ এবং কিছু কিছু বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকের ঢল নামে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটাই হয়েছে। এবার ইংরেজি নববর্ষে হাতেগোনা কিছু দর্শনার্থী ছাড়া তেমন পর্যটকের আগমন ঘটেনি এখানে। ব্যবসার জন্য একশ্রেণীর লোকে পর্যটকদের হয়রানির করেন, ফলে দিন দিন এখানকার পর্যটকদের আগমন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ইংরেজী নববর্ষের দিন ইংরেজি ২০১৬ সালকে বিদায় জানাতে ও ২০১৭ সালকে বরণ করতে গত ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি দেশের অন্যতম ইকোপার্ক ও প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুন্ডে পর্যটক সমাগম ঘটেনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় ৫-৬ ভাগও পর্যটকের আগমন না ঘটায় পিকনিক স্পটকে ঘিরে মাধবকুন্ডে গড়ে উঠা ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমে আসে। গত ১৫ বছরে মাধবকুন্ডে এমন ধস নামতে দেখা যায়নি বলে ব্যবসায়ীরা দাবী করেন। অব্যাহত পর্যটক হয়রানীর প্রভাবেই এবার নববর্ষ কিংরা থার্টি ফাষ্ট ডিসেম্বর পালনে ভ্রমণ পিপাসুরা মাধবকুন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
গত বছর ঈদের দিন মাধবকুণ্ডে ঘুরে আসা একজন পর্যটক কামরুল হাসান বলেছেন, মাধবকুণ্ডে একটি মিষ্টি পানের দাম ৩০ টাকা ও ২লি: পানির দাম রাখা হয়েছে ৫০টাকা। ব্যবসায়ীদের এমন প্রতারনার কারণে হয়ত পর্যটক দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। 
গত বছর যেখানে তিল ধারনের জায়গা খোঁজে পাওয়া যায়নি সেখানে এবার অধিকাংশ স্থান প্রায় ফাঁকা থাকতে দেখা গেছে। মাধবকুন্ডে বর্ষবরণে রোববার পর্যটকের তেমন দেখা মিলেনি।
ইকোপার্কের গেইট ইজারাদার মমিন উদ্দিন জানান, গত বছর ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি মাধবকুন্ডে ২০ হাজারেরও বেশি পর্যটক সমাগম ঘটে। এবার এ দুদিনে ২ হাজার পর্যটকও আসেননি।
হোটেল ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ জানান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতকে ঘিরে ১০টি হোটেলসহ দুই শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বছরে ৬-৭ দিনের ব্যবসার ওপর সারা বছরের ব্যবসা নির্ভরশীল। এরমধ্যে ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি অন্যতম। কিন্তু এবার এ দুদিনে আশানরুপ পর্যটক না আসায় ব্যবসায়ীদের মাঠে মরার অবস্থা হয়েছে। ব্যবসায়ী এনাম আহমদ জানান মাধবকুন্ডে গত ১৫ বছরে এমন পর্যটক মন্দা অবস্থা দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী  জানান, স্থানীয় কতিপয় আসাধু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী মাধবকন্ডে আগত পর্যটকদের নানাভাবে হয়রানী করে থাকে। আগত পর্যটকরা গাড়ি পার্কিং ইজারাদারের কর্মচারী, হোটেল ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীর দুর্ব্যবহার, হামলা, মারধর ও লুটপাটের শিকার হন। অনেক পর্যটক মাধবকুন্ড বেড়াতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফিরেছেন। বিশেষ করে দুর দুরান্তের নারী পর্যটকরা নানা হুমকির সম্মুখিন হন। দীর্ঘদিনের পর্যটক হয়রানীর প্রভাবে এবার মাধবকুন্ডে অন্যান্য বছরের তুলনায় ভ্রমণ পিপাসুরা ভিড় জমাননি। পর্যটক হয়রানীর ব্যাপারে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা কঠোর না হলে মাধবকুন্ডের প্রতি পর্যটকরা স্থায়ীভাবে নিরুৎসাহী হবেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, রোববার সরকারী অফিস আদালত খোলা এবং বই উৎসব থাকায় নববর্ষে মাধবকুন্ড পর্যটক শুন্য ছিল। তবে থার্টি ফাষ্ট ডিসেম্বর বন্ধের দিনেও পর্যটক শূন্য থাকার বিষয়টির হিসেব তিনি নিজেই মিলাতে পারেননি।