শনিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৭

শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

আজকাল রিপোর্ট :শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড় কেনার হিড়িক পড়েছেন। শীত নিবারণের জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। গতকাল বিকালে রাজধানীর নিউমার্কেট, হকার্স মার্কেট এলাকায় শত শত মানুষকে শীতের কাপড় কিনতে দেখা গেছে। গ্রামগঞ্জেও আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।



কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, রাজশাহী, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে  আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতে তাপমাত্রা দুই/এক ডিগ্রি কমতে পারে।

শ্রীমঙ্গল বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।এদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস থাকায় সেখানকার জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মহসীন বলেন, শীতের তীব্রতায় হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে শিশুসহ বয়স্ক রোগী ভর্তি রয়েছে। তার মধ্যে ১২জনই শিশু। তারা শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার রোগী।

রংপুরে শীত তীব্র আকার ধারণ করেছে। শীতে জবুথবু মানুষ বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। মানুষ আগুন কাঠ ও খরকুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কয়েকদিন থেকে শীতল হাওয়া বইতে থাকলেও গতকাল বাতাসের পরিমাণ অনেকটা কম ছিল। কিন্তু তারপরও কমেনি শীতের প্রকোপ।

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারগাড়ি এলাকার বাসিন্দা রবিউল জানান, ‘শীতোত মরি গেনো বাহে। খুব শীত পড়ছে (পড়েছে)। এনক্যা (এমন) শীত কমই দেখছি। মনে হওছে (হচ্ছে) দম বন্ধ হয়া যাওছে।’

বড় উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আফজাল জানান, ‘হামরা দিন আনি দিন খাই। শীতের কাপড় কিনমু ক্যামনে। ছোলপোল (ছেলেমেয়ে) নিয়া খুব কষ্টত আছি। হামার দিকে দেখার কেউ নাই। গরিব মাইনসের মরাই ভালো।’ শুধু তারাই নন শীতে অসহায় ও গরিব লোকজনও সবার অবস্থাই এমন।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে কুয়াশার পরিমাণ কম থাকলেও উত্তরের কনকনে ঠান্ডা শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিলছে না সূর্যের দেখা। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষজন।


শীতের কারণে মাঠে যেতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। বিশেষ করে জেলার নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার চর ও দ্বীপ চরে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এখানকার মানুষজন খুড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। তীব্র শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদি পশু পাখিরও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: তীব্র শীতে জেলার জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। কাগজ পুড়িয়ে ছিন্নমূল মানুষরা শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। দেখা দিয়েছে সর্দিজ্বর, ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়া। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। তীব্র শীতের কারণে বিভিন্ন সরকারি ভবন, রেলস্টেশন, ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণকারী ছিন্নমূল মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে।

নীলফামারী: কনকনে শীতের সঙ্গে বইছে হিমশীতল বাতাস। সারা দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না। ঠাণ্ডার পাশাপশি ঝিরঝির বৃষ্টি হওয়ায় আলুসহ বিভিন্ন খেতের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছে।

দিনাজপুর: কুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বইছে দিনাজপুরে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া শীত এখনো চলছে। শীতে রেল লাইন ও বস্তি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে।

বিশেষ করে রেল স্টেশনসহ জেলার বিভিন্নস্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছে সরকার ও বিত্তবান মানুষের দিকে।

এদিকে হরেকরমের শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে বসেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে শীতবস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় অভাবী লোকগুলো কিনতে পারছে না তাদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র। তীব্র শীতের কারণে জেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এভাবে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে মানুষের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ার আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা।