শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

কেমন কেটেছে -২০১৬


সিলেট আজকাল :২০১৬ সাল ছিল ঘটনাবহুল। ইতিবাচক আর নেতিবাচক ঘটনার বছর
২০১৬ সালের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো...


সিলেট মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে সিলেট এমসি কলেজে গত(৩ অক্টোবর) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করে সেলাই দেয়া হয়।
সিলেটের জিন্দাবাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে গত ০৪/১১/২০১৬ইং তারিখে নিহত হন সিলেট কমার্স কলেজের মেধাবী ছাত্র মিসবাহ উদ্দিন তাহা হত্যার খুনি কবিরের ফাঁসির দাবিতে আত্বীয়-স্বজন ও বন্ধুবর্গের আয়োজনে অনেক মানববন্ধন কর্মসূচী হয়।
 
তরুণ ব্যবসায়ী মামুন বক্সকে ঠিক একই কায়দায় প্রকাশ্যে দিবালোক সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে

এ বছর নির্মম সব হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে নারীকে। ২০ মার্চ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে। তনু হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। মানববন্ধন, সমাবেশ, মিছিল ও ফেসবুকে তনু হত্যার বিচার দাবি করেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

তনু হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায় আরেকটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের  খবরে। চট্টগ্রামে ৫ জুন শিশু সন্তানকে স্কুলের গাড়িতে তুলে দিতে গিয়ে পথের ওপরই খুন হন মাহমুদা খানম মিতু নামে এক গৃহবধূ। তিনি ছিলেন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী। হত্যাকারীরা শিশু সন্তানের সামনেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে মিতুকে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যও এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা হয়নি।
এভাবে একটির পর একটি হত্যাকান্ড ঘটতে থাকে সারা দেশে।

১৩ আগস্ট আফসানা নামে মিরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে তার প্রেমিক-স্বামী রবিন হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাকান্ডে কেঁপে ওঠে দেশ। সেখানে ২৮ জন নিহতের মধ্যে নারীও ছিলেন অনেক।

২৮ আগস্ট বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় স্কুলছাত্রী রিশা। রিশা ঢাকার উইলস লিটল ফাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। বখাটে এক লোক তাকে উত্ত্যক্ত করত। কিন্তু রিশা তার কুপ্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় ছুরি হাতে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে রিশার ওপর। গুরুতর আহত রিশা হাসপাতালে মারা যায়।

শিশু ধর্ষণ ছিল বিদায়ী বছরের আরেকটি দুঃখজনক দিক। দিনাজপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুর ওপর ধর্ষণ ও ভয়াবহ নির্যাতন চালানোর ঘটনায় স্তম্ভিত হয় দেশ।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫২৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৭৩ জন, গণধর্ষণের শিকার ১৫৪ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৬ জনকে। অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার ৩৫ জন, অগ্নিদগ্ধ ৬২, পাচার হয়েছে ৩৩, যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১৬০ জনকে। বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১৬৯ জন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৮ জন গৃহকর্মী, হত্যা করা হয়েছে ২২ জনকে।

বাংলাদেশের জন্য ২০১৬ সালটি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। বছর শেষে দেখা যাক, এশীয় নেতাদের মধ্যে ২০১৬ সালে কে কতটা সফল হয়েছেন। খবর ব্লুমবার্গ।

ইউরোপে ব্রেক্সিট গণভোট এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের মতো রাজনৈতিক ভূকম্পন হলেও সে তুলনায় বাংলাদেশ তথা এশিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতি মোটামুটি শান্ত ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এখনো খনি খাতের পতনের ধকল সামলে ওঠার চেষ্টায় রয়েছে। অস্ট্রেলীয় ডলারের মান ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এ বছর ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমবারের মতো গ্রুপ অব টোয়েন্টি ফোরামের (জি২০) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। পাশাপাশি তিনি চীনকে মুক্তবাজার ব্যবস্থার বড় প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত করতে সমর্থ হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত টিপিপি চুক্তি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ সুযোগে শি জিনপিং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) চুক্তি এগিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন। চীনা মুদ্রা রেনমিনবির মানে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ অবনমন ঘটেছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিন্ন করহার প্রবর্তনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) পাস করতে সমর্থ হয়েছেন। তবে বাজার থেকে বড় নোট প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন, তাতে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনা এবং জিএসটি প্রবর্তনই নতুন বছরে নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ভারতের মুদ্রা রুপির মানে এ বছর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ অবনমন ঘটেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পাক কুন হের জন্য বছরটি সবচেয়ে খারাপ ছিল। গত ৯ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট তার অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির জন্যও বছরটি কোনোভাবে ভালো ছিল না। কোরীয় মুদ্রা ওনের মান ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। কারাবরণ এড়ানোই নতুন বছরে পাক কুন হের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিল ওয়ান এমডিবি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামলে ভালোভাবেই ক্ষমতায় টিকে আছেন। বিষয়টিকে ঘিরে এক বছর ধরে চলতে থাকা বিতর্ক সত্ত্বেও তিনি বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগাম নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছেন। মালয়েশীয় রিঙ্গিতের মানে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ অবনমন ঘটেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এ বছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

পরিশেষে ২০১৭ সালটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য শোভ সূচনা হয়ে আসুক এই প্রত্যাশায়।