বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

বিনা খরচে সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার কর্মী নিবে কাতার


সিলেট আজকাল ডেস্ক: বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এবার সু-খবর। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার যখন নানা সংকটে তখন বাংলাদেশ থেকে গত কয়েক বছরে কাতারে বাংলাদেশিদের যাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যত লোক বিদেশে গেছে তার মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষে ছিল কাতার। ওই বছর ৫৭ হাজার ৫৮৪ জন কর্মী কাতারে যান। আর ২০১৪ সালে যান ৮৭ হাজার ৫৭৫ জন কর্মী। আর এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে ১৪ হাজার ৬২২ জন কর্মী কাতারে গেছেন।
যে পদ্ধতিতে কর্মীরা কাতার যাবেন
এবার কোন পদ্ধতিতে কর্মীরা কাতার যাবেন জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চাহিদা এবং নির্বাচন এই এই দুই জায়গার মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। এই দুই জায়গায় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তাহলে আর মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ পাবে না। আর খরচও বাড়বে না। কাতার সরকার আমাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। ফলে কাতার এখন থেকে সরাসরি আমাদের দূতাবাসে চাহিদাপত্র দেবে। এরপর দূতাবাস সেই চাহিদাপত্র ঢাকায় পাঠাবে। এরপর আমরা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ডেটাবেইস থেকে কর্মী দেব। ৫০০ জনের চাহিদার বিপরীতে আমরা ১ হাজার ৫০০ জনের নাম দেব। সেখান থেকে জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা কর্মী ঠিক করবে।
অল্প খরচ
ভিসা-বাণিজ্যের কারণে কাতারে যাওয়ার খরচ বেড়ে যায় উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসা ট্রেডিং বন্ধ করতে আমাদের প্রস্তাবে কাতার সরকার রাজি হয়েছে। ফলে খরচ কমে যাবে। আমার এই সফরের মূল লক্ষ্য সেই খরচ কমিয়ে আনা। আমি চাই সেই খরচ শূন্যে নেমে আসুক।
মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আমরা দুই দেশই জিরো মাইগ্রেশন কস্টের বিষয়ে একমত হয়েছি। কর্মীর যাওয়ার খরচসহ সবকিছু নিয়োগকর্তা দেবে। কাজেই শ্রমিকের কাতার যেতে সেভাবে খরচ লাগবে না। তবে পাসপোর্ট ও অন্যান্য বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

সরকারিভাবে নিবন্ধন করে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ 
নতুন যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন হয়েছে তাতে সরকারিভাবে নিবন্ধন করা ছাড়া এখন আর কারও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে শুরুতেই ঢাকার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কিংবা আপনার জেলার জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। ২০০ টাকা খরচ করে বিএমটির ডেটাবেইসে নাম নিবন্ধন করা যাবে। নাম নিবন্ধনের পর আপনি দালাল এড়িয়ে বৈধ যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রায় এক হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, যাদের প্রত্যেকের একটি করে লাইসেন্স নম্বর আছে। www.baira.org.bd এই তালিকায় গিয়ে সেগুলোর নাম জানা যাবে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি আবুল বাসার বলেন, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়া আর কারও চাকরির জন্য বিদেশে লোক পাঠানোর সুযোগ নেই। কাজেই কেউ অন্য কোথাও টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না।
কাতারের শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক শ্রমমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন সালেহ আল খেলায়ফির সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ডেটাবেইস ও শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তুতির কথা শুনে কাতার অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কাজেই ডেটাবেইস থেকেই কর্মী যাবে।
দক্ষ কর্মীদের চাহিদা 
কেবল সাধারণ শ্রমিক নয়, দক্ষ প্রকৌশলী, ব্যাংকার, রসায়নবিদসহ বিভিন্ন খাতেও বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত কর্মী নিচ্ছে কাতার। কাতার ফার্টিলাইজারে কয়েক শ প্রকৌশলী রয়েছেন। এ ছাড়া কাতারের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। এসব ক্ষেত্রে দক্ষ লোকদেরও চাহিদা রয়েছে কাতারে। এ ছাড়া কাতারে এক হাজারেরও বেশি ইমাম-মুয়াজ্জিন বর্তমানে কর্মরত আছেন। নতুন করেও অনেক ইমাম-মুয়াজ্জিন নিতে চায় কাতার। এ ক্ষেত্রে ইসলামি ও আরবি বিষয়ে যাঁদের যোগ্যতা আছে, তাঁদের বিশাল সুযোগ রয়েছে কাতারে। সরকারি জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা জানিয়ে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব মনসুর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২২ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে কাতার বাংলাদেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেটি আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক খবর। আমরা আশা করছি, কাতারের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হবে।

বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
যে সব নির্মাণ শ্রমিক কাজের জন্য নির্বাচিত হবেন, তারা কাতারে গিয়ে থাকা-খাওয়ার সব খরচ পাবেন। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দুই বছর পর দেশে আসা-যাওয়ার টিকিট, ছুটিকালীন বেতনসহ বিভিন্ন সুযোগ দেয়া হবে। বেতন পাবেন মাসে ৯০০ রিয়াল। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম সুবিধা পাওয়া যাবে।

যোগাযোগ 
যোগাযোগ করুন জনশক্তি, কর্মসংস্থা ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ৮৯/২ কাকরাইল, ঢাকার ঠিকানায়।
ফোন : ৯৩৫৭৯৭২
ওয়েবসাইট : www.bmet.gov.bd