শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

শীতে ইনহেলারের বাড়তি চাহিদা” দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে



সিলেট আজকাল : শীত এলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। সেসঙ্গে বাড়ে ইনহেলারের চাহিদাও। এবারো শীতে দেশে ইনহেলারের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। সে সুযোগে সরবরাহ সংকট দেখিয়ে চিকিত্সা উপকরণটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে ইনহেলার।
কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুরের বাসিন্দা আবুল হাসেম সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় গিয়েছিলেন অসুস্থ বাবার জন্য ইনহেলার কিনতে। তার কাছে প্রতিটি ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ইনহেলারের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা চেয়ে বসেন দোকানি। নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দাম শুনে হতবাক হয়ে যান তিনি।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সালপ্রেক্স ২০+১০০ মাইক্রোগ্রাম ইনহেলারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫০ টাকা। কিন্তু সরবরাহ সংকটে পণ্যটি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ওষুধের দোকানে। এছাড়া সরবরাহ সংকটের অজুহাতে যে যার মতো দামে বিক্রি করছে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) কোম্পানির ইকোহেলার ও ইভোহেলার। এ কোম্পানির সেরেটাইড ২৫০ মাইক্রোগ্রামের ইকোহেলারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮০ টাকা। কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। একই কোম্পানির ৫০০ মাইক্রোগ্রামের ইকোহেলারের মূল্য ১ হাজার ১০০ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। এছাড়া ৯২০ টাকা মূল্যের ১২৫ মাইক্রোগ্রামের ইভোহেলার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা এবং ১ হাজার ৮০ টাকা দামের ২৫০ মাইক্রোগ্রামের ইভোহেলার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। নেসাল স্প্রে ওষুধটির সরবরাহই নেই বাজারে। যাদের কাছে আগের মজুদ রয়েছে, তারা ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন এটি।
মিটফোর্ড এলাকার মেসার্স সুপ্তি মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান বলেন, শীত আসায় বাজারে সব ধরনের ইনহেলারের চাহিদা বেড়েছে। তবে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন ইনহেলার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় এবার দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
জানতে চাইলে জিএসকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, বাজারে তাদের ইনহেলার সংকট থাকার কথা নয়। রোগীদের সুবিধার বিষয়টি বরাবরই বিবেচনায় নেয়া হয়। তবে সবাই ছুটিতে থাকায় সরবরাহ সংকট নাকি অন্য কোনো সমস্যা, সেটি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জাতীয় অ্যাজমা সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে দেশে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭০ লাখ। ২০১০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখ। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ লাখ। ২০১৩ সালে এটি ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। বর্তমানে এ সংখ্যা আরো অনেক বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।