শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

জেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন ৫১ প্রার্থী

আজকাল ডেস্ক: সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে গিয়ে জামানত হারিয়েছেন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫১ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন কোনো ভোটই পাননি, এমনকি প্রস্তাবক ও সমর্থকেরাও তাদের বঞ্চিত করেছেন। ভোটের মাঠে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে সাধারণ সদস্য পদের এই ১০ প্রার্থীকে।

জামানত হারানোর তালিকায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী, সংরক্ষিত পদে ১৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে রয়েছেন ৩৬ জন। এদের মধ্যে দশকের কোটা ছুঁতে পারেননি এমন প্রার্থী সংখ্যা ৩৭ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত ৪ জন এবং বাকিরা সাধারণ সদস্য।

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তাদের জামানত হারাতে হয়েছে। বাংলানিউজকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে,  চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে জিয়া উদ্দিন আহমদ লালা (ঘোড়া) ৫৭ ভোট, ফখরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১০ ভোট। চেয়ারম্যান পদে জামানত রক্ষায় তাদের প্রয়োজন ছিল ১৭৭ ভোট।

সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুন্নেছা হেনা (দোয়াত কলম) ৭ ভোট, পাপিয়া চৌধুরী (টেবিল ঘড়ি) ৮ ভোট, রেহানা ফারুক শিরিন (কম্পিউটার) ১২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষায় তাদের প্রয়োজন ছিল ২৯ ভোট।

২ নম্বর ওয়ার্ডে খোদেজা রহিম কলি (দোয়াত কলম) ১৩ ভোট, মিসেস হামিদা খান (বই) ১০ ভোট, মোছা. আছমা বেগম (টেবিল ঘড়ি) ৪ ভোট, মোছা. মনোয়ারা বেগম বিনা (কম্পিউটার) ৮ ভোট পেলেও জামানত রক্ষায় তাদের প্রয়োজন ছিল ৩৮ ভোটের।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে গিতা রানী দাস (টেবিল ঘড়ি) ১৩ ভোট, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন (ফুটবল) ১৬ ভোট পেলেও জামানত বাঁচাতে তাদের আবশ্যক ছিল ৩৭ ভোট।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে আমিনা বেগম (দোয়াত কলম) ১৯ ভোট, জাহানারা বেগম (মাইক) ১২ ভোট, রোকেয়া আক্তার চৌধুরী (বই) ২২ ভোট, শিপারা বেগম (টেবিল ঘড়ি) ১২ ভোট পেলেও তাদেরও ৩৮ ভোট প্রয়োজন ছিল। তবে সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো প্রার্থী জামানত হারাতে হয়নি।

সাধারণ সদস্য পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ প্রার্থীর ৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- গুলজার আহমদ (বৈদ্যুতিক পাখা) ৬ ভোট, মো. কামরান হোসেন (তালা) ৫ ভোট, লোকমান আলী (ক্রিকেট ব্যাট) ৭ ভোট এবং শামীম কবীর, মো. আনোয়ার হোসেন (বক) ও গোলাম রব্বানী (ঘুড়ি), কোনো ভোটই পাননি। জামানত রক্ষায় তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন ছিল ৯ ভোট।  ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শোয়েব আহমদ চৌধুরী (বৈদ্যুতিক পাখা) ২ ভোট পেলেও তার প্রয়োজন ছিল ১৩ ভোটের।

৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জামাল উদ্দিন (হাতি) ও সুভাস চন্দ্র পাল (টিউবওয়েল) উভয়ে ১২টি করে ভোট পান। তাদের প্রয়োজন ছিল ১৩ ভোটের। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আজমল আলী (টিউবওয়েল) ৭ ভোট, সফিক উদ্দিন (হাতি) ৫ ভোট পেয়েছেন। জামানত রক্ষায় তাদের প্রয়োজন ছিল ১২ ভোট। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আফছার আহমদ (ক্রিকেট ব্যাট) ৩ ভোট, হান্নান মিয়া (তালা) ৮ ভোট পেয়েছেন, তবে শাহ মো. আখলাছ আলী কোনো ভোট পাননি। জামানত রক্ষায় তাদের আবশ্যক ছিল ১১ ভোটের।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারানো ৬ প্রার্থীরা হলেন- আব্দুল হান্নান (ঢোল) ১ ভোট, মো. নিমার আলী অ্যাডভোকেট (টিউবওয়েল) ৬ ভোট, মো. মামুন আহমদ (ঘুড়ি) ৪ ভোট, হাসান ইমাদ (উটপাখি) ৭ ভোট এবং সৈয়দ জেলোয়ার হোসেন স্বপন (অটোরিকশা) ও আব্দুল হক (তালা) কোনো ভোট পাননি। এ ওয়ার্ডে কমপক্ষে ১১ ভোট করে পাওয়া আবশ্যক ছিল।

১১ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদুর রহমান (অটোরিকশা) ১টি এবং সুফিয়ান আহমদ কোনো ভোট পাননি। তাদের প্রয়োজন ছিল ১৩ ভোট। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কামিল আহমদ (টিউবওয়েল) ২ ভোট, ময়েজ আহমদ (বৈদ্যুতিক পাখা) ৫ ভোট, মো. আব্দুল মজিদ (অটোরিকশা) ২ ভোট পেলেও আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী (ঘুড়ি) কোনো ভোট পাননি। ওই ওয়ার্ডের প্রার্থীদের জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ১৩ ভোটের।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই জামানত হারিয়েছেন।তারা হলেন- অ্যাডভোকেট ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী (ঘুড়ি) ৬ ভোট, মো. আব্দুস সবুর (টিফিন ক্যারিয়ার) ২ ভোট, মো. নাছির উদ্দিন (তালা) ৪ ভোট, নাজমুল ইসলাম (ক্রিকেট ব্যাট) ৫ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু আফজাল আহমদ চৌধুরী (অটোরিকশা) ও তাজেল আহমদ (হাতি) কোনো ভোট পাননি। জামানত বাঁচাতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১১ ভোটের।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ (অটোরিকশা) ৯ ভোট, মো. কবির উদ্দিন (বৈদ্যুতিক পাখা) ৪ ভোট, মো. আব্দুল খালিক (তালা) ১০ ভোট, মো. ছালেকুর রহমান (টিফিন ক্যারিয়ার) ২ ভোট পেয়েছেন। জামানত রক্ষায় তাদের ১১ ভোটের আবশ্যক ছিল।

সূত্র:বাংলা নিউজ